Saturday, 20 Jun 2026

হারিয়ে যাওয়া ভাদু গানকে ঘিরে উৎসব দুর্গাপুরে

IMG

দুর্গাপুর শহরে হারিয়ে যাওয়া ভাদু গানকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হল ভাদু গানের উৎসব। ভাদ্র মাসের উৎসব হিসেবে পরিচিত ভাদু উৎসব মূলত ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিন পালিত হয়। কেউ কেউ মনে করেন ‘ভাদু’ শব্দটি এসেছে ‘ভাদ্র’ মাস থেকে, আবার অনেকের মতে ‘ভাদু’ মানে লক্ষ্মী। যেহেতু লক্ষ্মী বিভিন্ন সময়ে পূজিত হন, তাই ভাদ্র মাসের লক্ষ্মীকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে শুরু হয় ভাদু পূজার প্রচলন। ধর্মীয় মতে, যে রমণী ভাদ্র মাসে লক্ষ্মীপুজো করেন, তাঁর ওপর যশোলক্ষ্মী, ভাগ্যলক্ষ্মী এবং কুললক্ষ্মী প্রসন্ন হন। এই কারণেই অনেকের ধারণা, ভাদু আসলে শস্যদেবী। ধান ওঠার পর চাষিদের ঘরে যে শস্য বন্দনার রেওয়াজ ছিল, তার বিবর্তনেই ভাদুদেবীর উদ্ভব হয়েছে।

তবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ভাদু উৎসব এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে, ভাদু গানের সুরও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই বিষয়ে জ্ঞান প্রায় নেই বললেই চলে। তাই শুক্রবার দুর্গাপুর শহরের বুকে লোকশিল্পী জীবন কিশোর চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত হল ভাদু গানের উৎসব। উৎসবে অংশগ্রহণ করেন লোকশিল্পী বৃতি চট্টোপাধ্যায়, ঢোলবাদক সৌদীপ চক্রবর্তী এবং বাঁশিশিল্পী সুনীল ডোম।

সন্ধ্যায় ডিএসপি টাউনশিপের এ জোনের মেজর পার্কে জীবনবাবু তাঁর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে রাঢ়বঙ্গের ভাদু গানের সুরে মেতে ওঠেন। ভাদু গান শুনতে বহু মানুষ পার্কে ভিড় জমান। প্রবীণেরা উৎসবে যোগ দিয়ে তাঁদের শৈশবে ভাদু গান শোনার স্মৃতি রোমন্থন করেন, আর নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা ভাদু গানের মধুর সুরে মুগ্ধ হয়ে তা উপভোগ করে।

Share: