Saturday, 20 Jun 2026

পুজোর মরশুমে চরম ব্যস্ততা মৃৎশিল্পালয়ে

IMG

শরতের আগমনের সাথে সাথেই বর্ষার বিদায়, আর সেই সাথে মাঠ-ঘাট, নদীচর কাশফুল আর শিউলি ফুলের সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে মায়ের আগমনী বার্তা। কয়েকটা দিন পরেই দেবী দুর্গার সপরিবারে মর্ত্যে আগমন, আর সেই সময় বাংলা জুড়ে শুরু হবে উৎসবের আমেজ। এখন প্রতিমা তৈরির কাজে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, খড়, সুতলির কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপে ধীরে ধীরে দেবী দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতীর রূপ ফুটে উঠছে।

এমনই এক মৃৎশিল্পী পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামসুন্দরপুর মোড়ের আনন্দ টুডু, যিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রথম মৃৎশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার স্ত্রী রাধা টুডুর সঙ্গে মিলে তিনি দিনরাত দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত। আনন্দের পরিবারে আগে কেউ মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত ছিলেন না, তাই তিনিই প্রথম এই পেশায় আসেন।

আনন্দ বলেন, তার বাবা ইসিএলে কাজ করতেন, এবং পরিবারের মধ্যে দুই ভাই ও ছয় বোনসহ বড় পরিবার ছিল। ছোটবেলা থেকেই মৃৎশিল্পীদের দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করতে দেখে, শিল্পী হওয়ার ইচ্ছে তার মনে জাগে। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে এক শিল্পীর সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। মাটি মাখা এবং মাটির তাল তৈরির মধ্যে দিয়েই তার হাতে খড়ি। প্রায় দশ বছর ধরে তিনি নিজেই বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করছেন। চার বছর আগে রাধার সঙ্গে বিয়ে হয়, আর এখন রাধা তার সহধর্মিনীই নয়, সহকর্মী হিসেবেও কাজ করছেন।

রাধা টুডু বলেন, "বিয়ের পর থেকে সংসার সামলানোর পাশাপাশি স্বামীর কাজে সাহায্য করার চেষ্টা করি।"

এ বছর আনন্দ ও রাধা ২৫টি বড় দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন, যা খনি অঞ্চলের বিভিন্ন মণ্ডপে শোভা পাবে। এক পুজো কমিটির কর্মকর্তা জানান, তারা গত তিন বছর ধরে আনন্দের তৈরি প্রতিমা নিচ্ছেন এবং তার কাজের প্রশংসা করেন। আনন্দের নাম দিন দিন আরও ছড়িয়ে পড়ছে।

আনন্দ বলেন, "আমিই প্রথম আদিবাসী মৃৎশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি। আশা করি, আমার সাফল্য দেখে আরও অনেক আদিবাসী এই পেশায় আসবেন। যদি তা হয়, তবে জানব, শিল্পী হিসেবে আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।"

Share: