Even After 700 Years, Maa Mahamaya is Still Worshipped with Grandeur: Devotees Flock to the Grand Festival at Lauberia in Khayrasol
বীরভূম জেলার খয়রাশোল থানার লাউবেড়িয়া গ্রামের নন্দী পরিবারে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলছে এক ঐতিহাসিক এবং শাক্ত ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ পূজো—মা মহামায়ার মহাপূজা। প্রায় ৭০০ বছরেরও অধিক সময় ধরে এই পূজোর মাধ্যমে শিলামূর্তিরূপে পূজিতা হয়ে আসছেন মা মহামায়া। যদিও এই পুজোর সূচনালগ্ন ইতিহাসের পাতায় অনুল্লেখিত, নন্দী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৮০ বছর আগে মহৎচরণ নন্দী ও চাকর নন্দীর হাত ধরে পূজার দায়িত্ব নব রূপে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে কেদার নন্দী, তিনকড়ি নন্দী এবং কাশীনাথ নন্দী একে একে এই দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে শুভেন্দু নন্দী, দিব্যেন্দু নন্দী, মনোজ নন্দী ও বাবলু নন্দী মিলে এই ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। শারদীয় পূজোর সময়, পঞ্জিকা মতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে মহাপূজার কার্যক্রম। সপ্তমীতে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা, খোল, করতাল ও শঙ্খধ্বনির মাঝে “দণ্ডি” টেনে মায়ের বারি আনয়ন করা হয়, যা এক অনন্য আচার। নন্দী পরিবার এবং গ্রামের পুরুষেরা এতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। সেই দিন থেকেই শুরু হয় দুটি গাই ঘি প্রদীপ প্রজ্বলন, যা দশমী পর্যন্ত অব্যাহত থাকে— মায়ের অক্ষয় জ্যোতির প্রতীক হিসেবে।মহামায়ার পূজায় বলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সপ্তমীতে কুমড়ো বলি, অষ্টমীতে দুটি মহিষ, সাতটি ছাগল, আখ ও কুমড়ো বলি হয়। নবমীতে মানতের ভিত্তিতে আরও একটি মহিষ এবং প্রায় ৩০টি ছাগল বলি দেওয়া হয়। প্রতিদিন ভোগ হিসেবে মাকে নিবেদন করা হয় চিঁড়া, ফল, মিষ্টি, লুচি ও অন্যান্য ভোগ্যসামগ্রী। মাকে সোনার-রূপোর অলংকারে সুসজ্জিত করা হয়।
দশমীর দিন ঘটে বিসর্জন ও সিঁদুর খেলার মাধ্যমে উৎসব এক ভক্তিময় আবহে পৌঁছে যায়। আর রাত্রে অনুষ্ঠিত হয় “দোলা বিসর্জন”, যা লাউবেড়িয়া গ্রামের সর্বাধিক আকর্ষণীয় অংশ। বাদ্যবাজনার তালে, হাজারো ভক্তের সমাগমে, নন্দী পরিবারের সকলে মিলে এই উৎসবে অংশ নেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য “যাত্রাবাঁধা” মহোৎসব, যা এই এলাকায় একমাত্র লাউবেড়িয়াতেই পালন করা হয় বলে নন্দী পরিবার সূত্রে জানা যায়। এই উৎসবে শুধু লাউবেড়িয়া নয়, বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকেও বহু ভক্ত প্রতিবছর উপস্থিত হন। গ্রামের মানুষের কাছে এটি শুধুই একটি পূজা নয়, এটি মায়ের সঙ্গে তাঁদের হৃদয়ের চিরন্তন যোগ। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা অপেক্ষায় থাকেন এই কদিনের জন্য, যখন মা মহামায়ার আশীর্বাদে তাঁরা পরিপূর্ণ হন। যুগ যুগ ধরে মা যেন এমনই মাতৃস্নেহে ভক্তদের আশীর্বাদ দিয়ে চলেন—এই প্রার্থনায় মেতে ওঠে গোটা লাউবেড়িয়া।

