মঙ্গলবার বেলা ১২.১৫থেকে বেলা প্রায় ১টা পর্যন্ত সাত দফা দাবির ভিত্তিতে দুর্গাপুরের মহুকুমা শাসকের সঙ্গে পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চে'র প্রতিনিধি দলের সদর্থক আলোচনা হয়।গত মে মাসের ৩১তারিখে এই স্মারকলিপি'র কপি তাঁর অফিসে জমা করা হয়। তার ভিত্তিতে গত ৯ই জুলাই বিকালে মহুকুমা শাসক মহাশয়ের সঙ্গে বিকালে প্রথম সাক্ষাৎ করা হয়। সেদিন সময়াভাবে আলোচনা অসমাপ্ত থাকায় উনি বলেন আপনাদের সঙ্গে নিয়েই প্রকৃতি ও পরিবেশ বাঁচানোর চেষ্টা করবো। তাই আজ আলোচনার জন্য সময় দেন। তাঁকে জানানো হয় যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বন বিভাগের সঙ্গে ইতিমধ্যেই পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চে'র আলোচনা হয়েছে। অরন্য দহনের খবর পাওয়া মাত্রই পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চে'র পক্ষ থেকে দমকল বিভাগে খবর দেওয়া মাত্রই তাঁরা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অগ্নি নির্বাপন করেছেন। কিন্তু যাঁরা এই অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের চিহ্নিত করা যায় নি। এটা জরুরি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সভা করে জল জমি জঙ্গল বাঁচানোর জন্য সচেতনতা গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। উনি এই প্রস্তাবে সহমত হন। উনি জানান যে নব নির্মিত মহুকুমা করনের জন্য রাস্তা চওড়া করার ক্ষেত্রে যে গাছগুলি কাটা পড়েছে তার পরিবর্তে নতুন মহুকুমা করনের উল্টো দিকের ঘেরা বাগানে কমবেশি ৫০০০গাছ লাগানো হয়েছে। যেহেতু পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চ উন্নয়নের পক্ষে, তাই শিশু বৃক্ষরাজি দেখে এই প্রশ্নে প্রতিনিধিদের পক্ষে এই কাজের প্রশংসা করা হয়। উনি খালি পড়ে থাকা কোনো খালি সরকারী জায়গার সন্ধান দিতে পারলে সেখানেও অনুরূপ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করার আশ্বাস দেন। ফুটপাতে বাজার ও গাড়ি পার্কিং করার জন্য পথচারী,বাইক ও সাইকেল আরোহীদের অসুবিধার কথা শুনে সিটি সেন্টারে আধুনিক বহুতল পার্কিং প্লাজার দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে এটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করবেন বলে উনি কথা দেন। গ্লোবাল স্পিরিট কারখানার অবস্থান পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে হওয়ায় এ'বিষয়ে পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চে'র পক্ষ থেকে ঐ জেলার ইউনিটকে যথাস্থানে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। প্রস্তাবিত সাইকেল লেনের জন্য উনি ম্যাপ জমা দিতে বলেন। সর্বশেষ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং ডিএমসি ও এডিডিএ'র প্রতিনিধি সহ পঃবঃ বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি সভা ডাকতে সন্মত হন। এই স্মারকলিপির সঙ্গে গতবছরের জলবায়ু ধর্মঘটের দিন(১৫.৯.২০২৩) দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে দেয়া স্মারকলিপির সূত্রে উনি প্লাষ্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। এ'ছাড়াও ঐ দাবিপত্রে উল্লিখিত ভূগর্ভস্থ জল বিক্রি বন্ধ করা ও দুর্গাপুরের জীবন রেখা দামোদর বাঁচানোর জন্য উল্লিখিত বহুপাক্ষিক সভায় আলোচনার আশায় ওঁনাকে ও ঐ সভায় উপস্থিত অন্যান্য সরকারি আধিকারিক বৃন্দকে পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চে'র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়। ঐ আলোচনা সভায় অজয় নদ বাঁচানোর প্রশ্নটিও যুক্ত করা হবে। পঃবঃবিজ্ঞান মঞ্চে'র প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাম প্রনয় গাঙ্গুলী, শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায়, অরুন্ধুতী ভাদুড়ী,সজল বসু, অশোক ভাদুড়ী,কে এফ আর সিদ্দিকী, দেবব্রত চৌধুরী ও তুহিন দত্ত।

