Saturday, 20 Jun 2026

ব্রিগেড ময়দান থেকে মোদীর ‘রণহুঙ্কার’: তৃণমূলকে ‘নির্দয়’ বলে আক্রমণ

IMG

From Brigade Parade Ground, Modi targets the Trinamool Congress

ব্রিগেড ময়দান থেকে মোদীর ‘রণহুঙ্কার’: তৃণমূলকে ‘নির্দয়’ বলে আক্রমণ, জঙ্গলরাজ শেষ করার বার্তা

লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত সভা থেকে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সুরে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিকেলে বিশাল জনসমাগমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলায় পরিবর্তনের সময় আর বেশি দূরে নেই এবং তার কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

“আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী…”সভামঞ্চে উঠে ভাষণ শুরুতেই বাংলা ভাষাতেই বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী, আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আপনাদের সবাইকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।” তাঁর এই সম্ভাষণে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সাড়া পড়ে যায়। মাঠে জমায়েত হওয়া বিপুল ভিড়ের দিকে ইঙ্গিত করে মোদী বলেন, এই উপস্থিতিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বাংলার মানুষের মনে কী পরিবর্তনের আশা জন্মেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যে বর্তমানে এক ধরনের “মহা জঙ্গলরাজ” চলছে এবং এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি। তাঁর কথায়, বিজেপি কর্মীদের ব্রিগেডে আসা আটকাতে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ও সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষকে ভয় দেখিয়ে দমানোর জন্য রাজ্য সরকার সবরকম কৌশল ব্যবহার করছে বলেও তিনি দাবি করেন। সিএএ ও এনআরসি প্রসঙ্গে তৃণমূলের বিরোধিতাকে আক্রমণ করে মোদী বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করতেই এই বিরোধিতা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গতকাল ওরা আপনাদের চোর বলেছে, কিন্তু আসল চোর কারা তা বাংলার মানুষ খুব ভালো করেই জানেন।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সময় এলে সব হিসাব নেওয়া হবে এবং যারা আইন ভেঙেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের পর রাজনৈতিক মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার না থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার সবসময় বাংলার উন্নয়নের পাশে থেকেছে। এদিন তিনি প্রায় ১৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সড়ক, রেল ও বন্দর উন্নয়নের এই প্রকল্পগুলি বাংলার উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিন ব্রিগেডের সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৃহৎ সমাবেশের মাধ্যমে মোদী শুধু উন্নয়নের বার্তাই দেননি, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকেও আগামী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ আর ভয় পাবে না এবং জঙ্গলরাজ থেকে মুক্তির জন্য তারা প্রস্তুত।

Share: