Saturday, 20 Jun 2026

সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান দুর্গাপুরে

IMG

আরজি করের নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে। রবিবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সিধু কানু স্টেডিয়াম থেকে মিছিল শুরু হয়ে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, জেলা তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জেলা সভানেত্রী অসীমা চক্রবর্তী, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল, তৃণমূল নেতা পঙ্কজ রায় সরকারসহ প্রাক্তন পুরপিতা ও পুরমাতারা। সিপিএমের মিছিল শেষে, সিপিএম জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় একটি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূলকে "শুয়োরের বাচ্চা" বলে গালি দেন এবং সিপিএম কর্মীদের তৃণমূলকে শুয়োর মারার মতো টেটা দিয়ে আক্রমণ করার নিদান দেন। তিনি বলেন, "হয় শুয়োর মারুন নয়তো নিজে মরুন।" তাঁর এই মন্তব্য দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক নিন্দার ঝড় তোলে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সিপিএম নেতৃত্ব ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ছে এবং ক্রমাগত বাম ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়ায় তাঁরা উপায় খুঁজতে ব্যর্থ হচ্ছেন। দলের মধ্যেই একটি অংশ দলের রণকৌশল পরিবর্তনের পক্ষে মত প্রকাশ করছে। সিপিএমের দাপুটে নেতা পঙ্কজ রায় সরকার রণকৌশল পরিবর্তনের কথা বলায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এবং তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, দলের রণকৌশল পরিবর্তনের জন্য এখনো দলের ওপর চাপ রয়েছে বহু নেতার পক্ষ থেকে। শুধুমাত্র তৃণমূলকে আক্রমণ করে দলের লাভ হচ্ছে না, বরং বিজেপিকে টার্গেট করে লড়াই শুরু করার দাবি উঠছে সিপিএমের অনেক নেতার পক্ষ থেকে।


এদিকে আরজি কর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি চলছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনগুলি স্থগিত রয়েছে এবং বহু রোগী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিটু নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারি হাসপাতালে যায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা, ধনী ও নেতারা যান বেসরকারি হাসপাতালে। জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, এবং তাঁরা বলছেন, হেভিওয়েট ধর্ষণ হওয়ায় সিপিএম বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিরোধিতার সুর বজায় রাখছে এবং জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না।"


অন্যদিকে, বিধাননগরের এক সিপিএম নেতা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "তৃণমূল সিবিআই-এর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে, কিন্তু সিপিএম তা করতে ব্যর্থ। সাধারণ মানুষ মনে করছে সিপিএম বিজেপির সঙ্গেই আছে। এখন রণকৌশল বদলের প্রয়োজন আছে, কিন্তু নেতৃত্বের সেটা বোঝার ক্ষমতা নেই।" সিপিএমের অন্দরে গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল কর্মীদের "শুয়োরের বাচ্চা" বলে মন্তব্য করাকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না এবং তাঁর বিরুদ্ধে দলের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সূত্রের খবর, অনেকেই মনে করছেন বারবার বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ব্যর্থ গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করা উচিত। এদিকে, তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানান, সিপিএম থেকে ৭২৮ জন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তিনি সিপিএম জেলা নেতৃত্বকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের টিআরপি একেবারেই কমে গিয়েছে, ভোটে জামানত জব্দ হওয়ায় দলের অন্দরে তাঁকে আর কেউ চায় না। তাই টিআরপি বাড়াতে অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে।" তৃণমূল জেলা সভাপতি আরও বলেন, "আমাদের নেত্রী আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছেন, তাই এখনো আমাদের শক্তি দেখাতে পারিনি। তবে মনে রাখবেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে ঘর থেকে বের হতে দেবো না। পুরানো জমানা ভুলে যান, এখন ভজন বাবুদের আমল নেই।"

Share: