দক্ষিণবঙ্গসহ ঝাড়খণ্ডে অতি বৃষ্টির কারণে দামোদর নদীর দুর্গাপুর ব্যারেজের নিম্ন অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন আইন ও বিচার বিভাগের মন্ত্রী মলয় ঘটক। তিনি রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির জন্য ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ডিভিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তুলেছেন।
ডিভিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা রাজ্যকে না জানিয়েই মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছেড়ে দেয়। এমনকি রাতের অন্ধকারেও বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মন্ত্রী মলয় ঘটক জানান, ডিভিসি কর্তৃপক্ষ রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছেড়ে দেওয়ায় এই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহুবার সতর্ক করার পরও ডিভিসি কর্তৃপক্ষ একই কাজ করে চলেছে।
আজ সকালে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ২ লক্ষ ৫৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জলছাড়ের পরিমাণ কমে ১ লক্ষ ৭০ হাজার কিউসেক হয়েছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি ২ লক্ষ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল, যার ফলে দুর্গাপুর ব্যারেজে জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়ে ২ লক্ষ ৭৫ হাজার কিউসেকে পৌঁছায়।মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ডিভিসি যে জল ছাড়ে, তা এসে জমা হয় দুর্গাপুর ব্যারেজে। এরপর রাজ্য সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে সেই জল দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ছাড়া হয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে দামোদর নদীতে ড্রেজিং না হওয়ার ফলে নদীর নাব্যতা অনেকটাই কমে গেছে। এতে জল ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় রাজ্য সেচ দপ্তরকে অতিরিক্ত জলের চাপ সামাল দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

