আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নেমেছে। বিরোধীরা যখন আরজি করের ঘটনার পর থেকে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল কর্মীরাও পাল্টা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।
এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আসানসোল ও কুলটিতে বিক্ষোভ সভার আয়োজন করা হয়। আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভায় একটি মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। আরজি করে মহিলা ডাক্তারকে ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হচ্ছে। তারা দ্রুত দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আসানসোল পুরনিগমের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রাজ্যের আইন ও শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটকের নেতৃত্বে দক্ষিণা কালী মন্দিরের কাছে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কাউন্সিলার গোপা হালদার, বোরো চেয়ারম্যান উৎপল সিনহা সহ ৩০ এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, কলকাতায় এই ধরণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দিনই বলেছিলেন যে যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরিত হয়, যেটা এখনো নতুন কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
মলয় ঘটক আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই ঘটনার দোষীদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে ধর্ষণে দোষীদের ফাঁসি দেওয়ার শাস্তি প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি ও বামপন্থীরা এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে।
এদিন একই দাবিতে আসানসোলের জিটি রোডের রাহালেন মোড়ের কাছে জেলা কার্যালয়ের সামনে আরেকটি বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা, আসানসোল পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি অভিজিৎ ঘটকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

