নদীয়া জেলার সদর কৃষ্ণনগরে আনুমানিক ১৭৬৬ সালে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। কিংবদন্তি অনুসারে নবাব আলীবর্দী রাজত্ব করে রাজার নিকট থেকে নজরানা দাবি করেন। নজরানা দিতে অপারক হওয়ায় নবাব রাজাকে বন্দী করে মুর্শিদাবাদে বর্তমানে মুঙ্গেরে নিয়ে যান। মুক্তির পর নদীপথে কৃষ্ণনগরে ফেরার সময় গঙ্গার ঘাটে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন যে, সে বছর দুর্গাপুজোর কাল উত্তীর্ণ হয়েছে; দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে না পারায় রাজা অত্যন্ত দুঃখিত হন। সেই রাতেই দেবী দুর্গা জগদ্ধাত্রী রূপে রাজাকে পরবর্তী শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী পূজো করার আদেশ দেন। দেবীর আদেশ অনুসারে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করেন। সেই থেকেই বঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়। ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই পুজোর প্রচলন শুরু হয়। সারা রাজ্যের সঙ্গে দুর্গাপুরও মাতোয়ারা হয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজোয়। দুর্গাপুরের জগদ্ধাত্রী পূজো পরিক্রমায় আমরা পৌঁছে গিয়েছিলাম দুর্গাপুরের অরবিন্দ স্পোটিং ক্লাবের পরিচালনায় জগদ্ধাত্রী পুজো মন্ডপে। প্যান্ডেলে অভিনবত্বের পাশাপাশি প্রতিমায় রয়েছে সাবেকি ছোঁয়া। পুজোকে কেন্দ্র করে এই কটা দিন বসেছে মেলা। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর মানুষ আসছেন প্যান্ডেল ও প্রতিমা দর্শন করতে।

