কলকাতা শহরে অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে গোয়েন্দারা। বিশেষ করে, নবান্ন অভিযানের নামে শহর স্তব্ধ করার চেষ্টা হতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে লালবাজার থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার শহরে যাতে কোনও গোলমাল না হয়, তার জন্য অতিরিক্ত প্রায় চার হাজার পুলিশ রাস্তায় নামছে। শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যারিকেড করা হবে, এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা সরাসরি রাস্তায় দাঁড়িয়ে পুলিশবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন।
তাছাড়া, নবান্ন ঘিরে থাকবে হাওড়া কমিশনারেটের প্রায় দু’হাজার পুলিশ। নজরদারি চালানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হবে, পাশাপাশি জলকামান ও ‘বজ্র’ গাড়ি নামানো হচ্ছে। 'পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ' নামে একটি সংগঠন মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছে, যদিও গোয়েন্দাদের মতে, এই সংগঠনকে সামনে রেখে বিজেপি এই অভিযানের নামে অশান্তি ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ২৭ আগস্ট পরীক্ষার দিনে এই অরাজকতার চেষ্টা হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের পোশাক পরিয়ে গুন্ডাদের দ্বারা গোলমাল করার চেষ্টা হতে পারে, এবং অন্য রাজ্য বা জেলা থেকে লোক এনে পুলিশের বেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। এর ফলে, কড়া নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ২৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ইউজিসি নেট পরীক্ষা হবে। এই দিন নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে, তাই কেউ যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে অসুবিধায় না পড়েন, তার জন্য রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখা হবে।

