ভারতে সূর্য উপাসনার জন্য প্রসিদ্ধ পার্বণ ছট পূজা। হিন্দু বর্ষপঞ্জির কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এটি উদযাপিত হয়। মূলত বিহার, ঝাড়খন্ড, পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ অংশ এবং নেপালের তরাই অঞ্চলে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে এই উৎসব বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছে। ছট পূজা সূর্য ও ষষ্ঠী দেবী তথা ছটি মাইয়ার প্রতি নিবেদিত, যেখানে তাদের পৃথিবীতে জীবনের স্রোত অব্যাহত রাখার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয় এবং আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়।
এই পূজায় কোনো মূর্তির পূজা করা হয় না এবং নারী-পুরুষ সমানভাবে এই উৎসবে অংশ নেন। ছট পূজায় অস্তমিত ও উদীয়মান সূর্যকে পুজো করা হয়। ব্রত পালনকারীরা একটানা ৩৬ ঘণ্টার কঠোর নির্জলা উপবাস পালন করেন। এই পূজায় সাত্ত্বিক নৈবেদ্যসহ বিভিন্ন ফলমূল ও মিষ্টান্ন কুলো, ডালা ও পাচিতে রেখে উৎসব করা হয়। পরম্পরাগত বিহারী লোকখাদ্য ঠেকুয়া নৈবেদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। পূজার সময় সম্পূর্ণ নিরামিষ ও নুন-মসলা বিহীন খাবার গ্রহণ করা হয়। পূজার শেষে প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণও এই পূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দুর্গাপুরের কুমার মঙ্গলম পার্কের ছট ঘাটে এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রাম উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল এবং দুর্গাপুর নগর নিগম প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপারসন নিন্দিতা অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়সহ অন্যান্য আধিকারিক ও দুর্গাপুর ইস্পাত নগরী মহা ছট পূজা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ব্রতীদের সুখ-সমৃদ্ধি ও মনোবাঞ্ছিত ফল লাভের জন্য শুভকামনা জানান। মূলত হিন্দিভাষী মানুষেরা এই উৎসব পালন করলেও বর্তমানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই পূজায় অংশ নিচ্ছেন। দুদিন ধরে অত্যন্ত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই পূজা পালিত হয়।

