Saturday, 20 Jun 2026

আন্তর্জাতিক কিকবক্সিংয়ে ট্রিপল গোল্ড, দেশের গৌরব বাড়ালো দুর্গাপুরের আরাধ্যা

IMG

আন্তর্জাতিক কিকবক্সিংয়ে সাফল্য, তিনটি স্বর্ণপদক জিতে নজির গড়ল দুর্গাপুরের আরাধ্যা । নতুন দিগন্ত খুলল দুর্গাপুরের আট বছর বয়সী কিকবক্সার আরাধ্যা ধীবরের সামনে। ১লা থেকে ৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ওয়াকো ইন্ডিয়া ওপেন ইন্টারন্যাশনাল কিকবক্সিং প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে সে। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই তিনটি ইভেন্টে স্বর্ণপদক এবং আরও একটি ইভেন্টে রৌপ্যপদক জিতে তাক লাগিয়েছে এই খুদে প্রতিভা।  


বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ, যেমন—গ্রেট ব্রিটেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, নেপালসহ অন্যান্য দেশের কিকবক্সাররা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, ভারতের মধ্যে একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে **তিনটি স্বর্ণপদক জিতে নজির গড়েছে আরাধ্যা।  


গত বছর পুনেতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় জোড়া পদক জেতার পরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ আসে তার কাছে। চিলড্রেন ক্যাটাগরিতে -৩৬ ও +৩৬ ওজন বিভাগে পয়েন্ট ফাইট, পাশাপাশি মিউজিক্যাল ও ক্রিয়েটিভ ফর্ম বিভাগে অংশগ্রহণ করে আরাধ্যা। ক্রিয়েটিভ ফর্ম ও মিউজিক্যাল ফর্ম বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে একটি স্বর্ণপদক ও একটি রৌপ্যপদক পায়, আর -৩৬ ও +৩৬ ওজন বিভাগের পয়েন্ট ফাইটে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করে।  


মাত্র এক বছর ধরে দুর্গাপুরের এলএসএম কিকবক্সিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আরাধ্যা। প্রশিক্ষক ঈশ্বর মাজির তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই ছয়টি বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ২০টির বেশি পদক জিতেছে সে। জেলা ও রাজ্য স্তরে দুটি করে স্বর্ণ ও রৌপ্য, জাতীয় স্তরে দুটি ব্রোঞ্জ, এবং সম্প্রতি রাজ্যব্যাপী ইন্টার স্কুল গেমসে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। এছাড়া, দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাউথ বেঙ্গল কিকবক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ ও স্পোর্টস কার্নিভালেও পদক জিতেছে আরাধ্যা।  


পশ্চিম বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ফিরোজ খান বলেন, **"আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তিনটি স্বর্ণপদক জিতে আরাধ্যা আমাদের জেলা, রাজ্য এবং পুরো দেশকে গর্বিত করেছে।"


প্রশিক্ষক ঈশ্বর মাজি জানান, **"আরাধ্যা খুবই পরিশ্রমী ও প্রতিভাবান। এই সাফল্য ওকে ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে, কিকবক্সিংয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা সরকার সাহায্য করে, তাহলে আরাধ্যার মতো আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে।"


আরাধ্যার মা কাকলী ধীবর বলেন, **"চারটি ইভেন্টে চারটি পদক পেয়ে সে আমাদের গর্বিত করেছে। এর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণপদক দেশের জন্য উপহার দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিদেশেও খেলার সুযোগ পাবে, কিন্তু কিকবক্সিংয়ের সরঞ্জাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। মধ্যবিত্ত পরিবার হিসেবে সেটা আমাদের পক্ষে কঠিন, তবুও আমরা আশাবাদী।"


বলাবাহুল্য, পশ্চিমবঙ্গ তথা দুর্গাপুরের অন্যতম প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ হিসেবে এবার আরাধ্যার নামও তারকা ক্রীড়াবিদদের পাশে জায়গা করে নিল। দুর্গাপুরে ফেরার পর তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কিকবক্সিং একাডেমি।

Share: