When Goddess Saraswati Takes on the Role of an Elder Sister
সরস্বতী কে দিদি রূপে তুলে ধরলেন শিল্পী। আর পাঁচটা গৃহস্থ বাড়ির মতোই বড় দিদি পরম স্নেহে পাঠ দান করছেন ভাইদের। সরস্বতী বিদ্যার দেবী রূপে পূজিত হন বাংলা জুড়ে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিদ্যা আরম্ভের পূর্বে দেবী সরস্বতীর কাছে ছোটদের হাতে খড়ি দেওয়ার চল রয়েছে। দেবী সরস্বতীর কাছে হাতে খড়ি দিয়েই শুরু হয় জীবনের পাঠ গ্রহণ পর্ব।
মা সরস্বতী হিন্দুদের বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পুজোর আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত।
দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মুচিপাড়া লাগোয়া খাটপুকুর এলাকায় বাগদেবীর আরাধনায় দেবীকে দিদি রুপে পুজো করা হল। এই এলাকার বাসিন্দা মৃৎশিল্পী ধনঞ্জয় দাসের ভাবনা ও হাতের ছোঁয়ায় সরস্বতী দিদিরূপে পাঠ দান করলেন কার্তিক ও গণেশ কে। মৃৎশিল্পী জানান, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড়দিদি ছোট ভাইদের লেখাপড়া শেখায়। আর সরস্বতী পূজোয় হাতে খড়ি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। সেই ভাবনা থেকে দিদি সরস্বতী ভাইদের লেখাপড়া সেখাচ্ছে এমন মূর্তিই তুলে ধরেছে তিনি। মৃৎশিল্পী ধনঞ্জয় বাবু ছোটবেলা থেকেই তার দাদু ও বাবার হাত ধরে ঠাকুর গড়া শুরু করেছিলেন। মণ্ডপে প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাটির মূর্তি প্রাণ পায় তার হাতের ছোঁয়ায়। শুধু মাটি দিয়ে নয় সমুদ্রের চরে বালি দিয়ে বিভিন্ন মূর্তি তৈরি করেছেন তিনি। এর আগেও আমরা দেখেছি তালপাতা দিয়ে সরস্বতীর মূর্তি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এবার তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন এই নতুন ভাবনা। এলাকার ছোট পড়ুয়ারাও শিল্পীর সাথে কাজে হাত লাগিয়েছে। প্যান্ডেল তৈরি, খড় ও ফুল দিয়ে মন্ডপ সজ্জা সবকিছুই করেছে এলাকার ছোটরা।

